সৌদি প্রবাসী মো. ইমরল লস্করের স্ত্রী প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও ০৯ জানুয়ারি ২০২২



 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

 

আপডেট: ২২:৫১, ০৯ জানুয়ারি ২০২২

প্রবাস থেকে বাড়ি ফিরে স্বামী দেখেন ঘরে তালা। প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও স্ত্রী! ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের বিলবাউস গ্রামে।

সৌদি প্রবাসী মো. ইমরল লস্কর বিলবাউস গ্রামের মৃত ইয়ার আলী লস্করের ছেলে। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম একই গ্রামের আলহাজ হাসেম শেখের মেয়ে।

ইমরুল বলেন, সৌদি আরব থেকে আজ রোববার সকালে বাড়িতে এসে দেখি গেটে তালা দেওয়া। পাশে আমার শ্বশুরবাড়ি। সেখানে গিয়ে আমার শ্বশুর আলহাজ হাসেম শেখ ও শাশুড়ি ভ্যাগা বেগমের কাছে স্ত্রীর কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, জানি না, কোথায় গেছে।

ইমরুল লস্কর আরও বলেন, ২০০২ সালে  ফাতেমার সঙ্গে আমার প্রেম হয়। পরে বিয়ে করি। ২০০৭ সালে আমি সৌদি আরবে যাই। সেখান থেকে আমি আমার স্ত্রীর নামে দীর্ঘ ১৫ বছরে প্রায় কোটি টাকা পাঠাই। এ ছাড়া আমার নামে বাড়ি করার জন্য গ্রামে ১৩ শতক জমি ক্রয় করতে বলি। সেটাও তার নামে রেজিস্ট্রি করেছে। আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমি এর বিচার চাই।

পলাতক ফাতেমা বেগমের বিচার চেয়ে প্রতিবেশীদের মানববন্ধন। ছবি : এনটিভি

ইমরুল লস্ককরের এই অবস্থা দেখে প্রতিবেশীরা ফাতেমা বেগমের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, মো. মুজিবর মোল্য, লিটন লস্কর, আব্বাস লস্কর, মনিরুল লস্কর, মিজানুর লস্কর, লাভলী বেগম, শারমিন সুলতানা প্রমুখ।

প্রতিবেশী মুজিবর মোলা বলেন, কয়েকদিন বাড়ির বিল্ডিং ও সীমানা প্রাচীরের গেটে তালা দেওয়া দেখতে পাই। তিনি আরও বলেন, কালিয়ার চাদপুর গ্রামের কারেন্ট মিস্ত্রি কবিরের সঙ্গে তার একটা পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সম্ভবত তার কাছে চলে গেছে।

মহিলারা বলেন, আমরা এই বেঈমান ফাতেমা বেগমের বিচার চাই, আপনাদের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে ফাতেমা বেগমের কাছে জানতে ফোন করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার মা ও বাবা হাসেম মোল্যার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, মেয়ে কোথায় গেছে, আমরা জানি না। তবে আমার মেয়ের জামাই ইমরুল তার নামে টাকা-পয়সা পাঠাত এবং বাড়ি কিনে দিয়েছে।

প্রায় কোটি টাকা কি না, জানতে চাইলে তারা বলেন, এত টাকা হবে কি না, জানি না।

এ বিষয়ে কালিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কনি মিয়া শেখ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

১২ বছর পর বিদেশ থেকে ফিরে এসে নিজের পরিবার তথা বাপ মায়ের কাছে প্রতারিত হয়েছে বিদেশ ফেরত প্রবাসি


 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 পড়ুন, জানতে পারবেন বাস্তবতা কতটা কঠিন!

ব্যাংকের এক ক্লায়েন্টের সাথে হঠাৎ দেখা,, প্রায় ১২ বছর আগে অন্য এক ব্রাঞ্চে ছেলেটি এসেছিলো তার বাবার নামে একাউন্ট খুলতে৷ তথ্য গ্রহণে জেনেছিলাম সে লেবার ভিসায় বাহরাইন যাবে গ্রামে পরিবারের শোচনীয় অবস্থা দূর করতে,,, বাড়ী লক্ষ্মিপুর।

প্রসঙ্গক্রমে আমি বলেছিলাম তার নিজের নামেও একটা সেভিংস আর ডিপিএস খুলতে, ওটাতে কিছু টাকা জমা রাখবে, আর সাংসারিক ও জরুরী খরচটা বাবার একাউন্টে পাঠাবে। ছেলেটি এবং তার বাবা দুজনেই অমত করলেন,,,।

এবার এক যুগ পরের ঘটনা,,, কিছুদিন আগে কাউকে না জানিয়ে দেশে এসে সোজা গ্রামে চলে যায় সারপ্রাইজ দিবে বলে,, কিন্তু নিজেই বড় সারপ্রাইজটি পেলো প্রিয়জনদের কাছ থেকে।

সে ছিলো ৩ ভাইয়ের মধ্যে মেজো। একটা বোনও আছে। সবার বিয়ে হয়েছে। ভাঙ্গা বাড়ীটির জাগায় ঢালাই ঘর উঠেছে,, বড় ভাই বাজারে ভালো মুদি ব্যাবসা দিয়েছে। এইটুকুন রেখে যাওয়া ভাইস্তা এখন দামী বাইক চালায়,, ছোট বোনের নতুন বাচ্চা হয়েছে,, সবার জন্য সে টুকটাক গিফট এনেছে,, যখন যা চোখে পড়তো, কিনে জমিয়ে রাখতো, দেশে আসার অপেক্ষায়,,

কিন্তু অবাক হলো যখন কেউ তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি,, অথচ ভিডিও কলে সবাই কত আন্তরিক!! লাগেজ খুলা পর্যন্ত একটু আশেপাশে ছিলো, তারপর যে যার রুমে চলে যায়,,, দুপুরে খাবার সময় মা'ও বিশ্রামের উছিলায় সামনে থাকেনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ৫ রুমের বাড়িতে রাতে ঘুমাবার জন্য তার কোথাও জায়গা হচ্ছিলো না,, ভাইস্তা নাকি কারো সাথে রুম শেয়ার পছন্দ করে না, সামনে পরীক্ষা,, রাত জেগে পড়তে হয়। বোন নাইওর এসেছে, ড্রইং রুমের ছোট বেডটি তার দখলে। বাকি ৩ রুমে বাবা-মা আর দুই ভাই থাকে পরিবার সহ।

রাতটা কোনরকমে কাটলেও বিপত্তি বাধে পরদিন সকালে যখন সে বাবাকে ব্যাংক থেকে কিছু টাকা উঠাতে বলে।

বাবা একবাক্যে বলে দিলেন "একাউন্টে কোন টাকা নেই",, এতো বড় সংসার,, এর ব্যাবসা, ওর বিয়ে,, বাড়ি মেরামত,, চিকিৎসা,, এই,,সেই,, নানা কাজে টাকা লেগেছে। টাকা তো খরচের জন্যই, নাকি? ছেলে নির্বাক!! জীবনের ১২ টি বছর খেয়ে-না খেয়ে রাত-দিন কঠিন অমানবিক পরিশ্রমার্জিত টাকার কিছুই সে নিজের জন্য রাখতো না, দেশে তো জমছেই,, এই ভেবে সব পাঠিয়ে দিতো বাবার একাউন্টে। হিসাব রাখেনি,, তবে আনুমানিক ৬০ লাখের উপরে টাকা পাঠিয়েছে লেবারি করে,, হাতজোড়া দেখালো ফোঁসকা পড়ে গেছে, কড় ধরে গেছে জাগায় জাগায়। না খেয়ে থেকে বিভিন্ন রোগ বাঁধিয়েছে,,

বললো, দেশে আসার নাম নিলেই বাবা-মা নিষেধ করতেন,, এখনই কেনো,, আরো টাকা জমুক, পরে আয়,, বিয়ের কথা বললে সবাই কেমন যেনো অবাক হতো, যেনো এটা অর্থ উপার্জনের বয়স, বিয়ের বয়স না। অথচ ছোট ভাইটি তার চেয়ে ৫ বছরের ছোট এবং বেকার হলেও হাইফাই চালচলন, দামী পোষাক এবং ঘটা করে বিয়ে করেছে বছরখানেক হলো। এই গন্ডগ্রামেও তার রুমে এসি আছে।

শুরু হলো বাক-বিতন্ডা,, কয়েক বছর আগে একটা জায়গা কেনার জন্য টানা দুই মাস দুপুরের মিল না খেয়ে জমিয়ে বেশী করে টাকা পাঠিয়েছিলো,, ছেলে ওই সম্পত্তিটি বিক্রি করতে চাইলো,, বাবা বললেন, যেহেতু বাবার বয়স হয়েছে, আর সে বিদেশ থাকে, তাই জায়গাটি রেজিস্ট্রি হয়েছে দেশের দুই ভাইয়ের নামে। তারা ওটা বিক্রিতে রাজি না,, তাদের সন্তানদের একটা ভবিষ্যত আছে তো!!

মাত্র ৩ দিনের মাথায় সে এক কাপড়ে পাসপোর্ট নিয়ে ঢাকা চলে এলো, বাড়ীতে কিছু জানিয়ে আসেনি, তারাও ফোনে খোঁজ নেয়নি। ৩/৪ দিন পরের ফ্লাইটের টিকিট কেটে ফেলেছে,, এই কদিন ঢাকা শহরে চলতে হবে তো!! বিকাশে কোন এক বন্ধুর কাছ থেকে হাজার তিনেক ধার এনেছে, আর পকেটে সামান্য কিছু বিদেশী মুদ্রা ছিলো, ব্যাংকে এসেছিলো ওগুলো কোথায় কনভার্ট করবে জানতে,,

আফসোস নিয়ে বললো, প্রবাসী বন্ধুদের কাছ থেকে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন রকম গল্প শুনতাম,, অবিশ্বাস্য ঠেকতো,, আজ নিজে প্রমাণ পেলাম। আমার মনে আছে, সেদিন আপনারা নিজের নামে একটা ডিপিএস করতে বলেছিলেন,, করলে ওটার উছিলায় আজ কিছু টাকা অন্তত নিজ সঞ্চয়ে থাকতো,,

ব্যাংকারদের জন্য এরকম ঘটনা নতুন নয়,, প্রায়ই বিভিন্ন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন প্রবাসীরা,, বিশেষ করে লেবার/ওয়ার্ক ভিসাধারী যারা আরব কান্ট্রিগুলোতে আছেন, তাদের জীবনের গল্পগুলো খুব একটা সুখকর নয়,,

এক সপ্তাহের "দেশ" সফর ছেলেটিকে অনেক কিছু শিখিয়েছে,,, বিদায়ের সময় আমাদের বলে গেলো, তার পরিবারের সবার দামি বাইক আছে, ব্যাবসা আছে, বউ-বাচ্চা আছে,, সম্পত্তি আছে,, শুধু তার "কিছু" নেই,,, "কেউ" নেই,,,

লিখেছেন ব্যাংকার Fahmina Farah